শোভন-বৈশাখীর ‘পরীক্ষা নিতে’ ফের মিছিলের ডাক বঙ্গ বিজেপির

নিউজ ডেস্ক: ‘তৃণমূল এখন ছোট চাদরের মতো। পা ঢাকতে গেলে মাথা বেরিয়ে যাচ্ছে। মাথা ঢাকতে গেলে পা।’ দল ছাড়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেন বিজেপির কলকাতা জোনের পর্যবেক্ষক শোভন চট্টোপাধ্যায়। রবিবার হেস্টিংসে বিজেপির দপ্তরে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন শোভন-বৈশাখী। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এদিনই প্রথমবার সংগঠনের কোনও বৈঠকে হাজির হলেন শোভন। সেখানে দাঁড়িয়েই তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী ‘কানন’।

গত সোমবার অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি প্রায় শেষ মুহূ্র্তে মিছিলে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যয়। দুই নেতার সিদ্ধান্তে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যায় গেরুয়া শিবির। তবে এবার মিলল জট কাটার ইঙ্গিত। দুই পর্যবেক্ষককে স্বাগত জানাতে সোমবার ফের হবে মিছিল। গোলপার্ক থেকে মিছিল যাবে সেলিমপুর পর্যন্ত। তবে সূত্রের খবর, গতবারের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মিছিল থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চলেছেন দলের অন্যান্য নেতা-নেত্রী। বস্তি উন্নয়ন শাখার নামে হতে চলা সেই মিছিলে আবার কারা সামিল হবেন, তাও এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বিজেপির তরফে। এ দিকে এদিনের মিছিলেরও অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ।

অন্য দিকে বিজেপিতে যোগ দিলেও কোনওদিনই সেভাবে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যানি শোভনকে। বরং বান্ধবী বৈশাখীও বিজেপির একাধিক কার্যকলাপে প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এই দু’জন যে ঠিক কী চান, বিজেপির কাছেই অধিকাংশ সময় তা ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। এরইমধ্যে গত সপ্তাহে হঠাৎই রাজ্য বিজেপি শোভনকে কলকাতা জ়োনের পর্যবেক্ষক হিসাবে ঘোষণা করে। বৈশাখীকে করা হয় সহ-আহ্বায়ক। তখন থেকেই মনে হচ্ছিল, এবার খেলা ঘুরলেও ঘুরতে পারে। রবিবার কলকাতা জ়োনের বৈঠক থেকে শোভন যেভাবে তৃণমূলকে একের পর এক বাক্যবাণে বিঁধলেন, তাতে মনে হচ্ছে অবশেষে শোভন ‘বিজেপির হচ্ছে’।

এদিন শোভন বলেন, ‘তৃণমূলের অবস্থা এখন ছোট চাদরের মতো। মাথা ঢাকা দিতে গেলে পা বেরিয়ে পড়ছে। পা ঢাকা দিতে গেলে মাথা বেরিয়ে পড়ছে।’ এরপরই তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের সঙ্গে কী অন্যায় হয়েছে তার উদাহরণ তুলে শোভনের বক্তব্য, ‘যাঁরা দল তৈরি করল তাঁরা যা ব্যবহার পেল তা দুর্ভাগ্যজনক। যাঁরা জীবন সংগ্রাম করে দল গড়লেন তাঁরাই থাকতে পারলেন না। এই তো মুকুল রায়। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছিলেন, কিন্তু তিনিই থাকতে পারলেন না।’ এখানেই থামেননি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। তৃণমূল কোনওদিনই আত্মসমালোচনা করেনি বলে দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমোর এক সময়ের অত্যন্ত পছন্দের মানুষটি। কিন্তু এবার মুকুল, শুভেন্দুর সুরেই শোভনের আত্ম বিশ্লেষণ, ‘ওখানে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি’। ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার পথে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার তীব্র নিন্দা করে শোভনের কটাক্ষ, এভাবে দল বাড়ে না। এটা কালিদাসের মতো যে ডালে বসে আছেন, সেই ডালই কাটার সমান।

 

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles