হঠাৎ রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী, মুখোমুখি বৈঠক করলেন রাজ্যপালের সঙ্গে

নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের মাঝেই রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। বিকেল পাঁচটা পঁচিশ থেকে সন্ধে ছ’টা সতেরো পর্যন্ত রাজভবনে ছিলেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর আচমকা রাজভবন সফরকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি নবান্নের। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ছবি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ট্যুইট করলেও সাক্ষাতের বিষয়বস্তু নিয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। প্রায় প্রতিদিনই টুইট করে রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যপাল। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তারপরও অবশ্য সংঘাত থেমে থাকেনি।

বুধবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরে সফরে যান জগদীপ ধনকর। তমলুকের বর্গভিমা মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানান রাজ্যপাল। তারপর সার্কিট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। আমফান দুর্নীতি নিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান। রাজ্য প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের পাশাপাশি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ‘ব্যর্থ’ বলেও দাবি করেন রাজ্যপাল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর রাজভবন সফর নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।

এদিন বিকেল ঠিক পাঁচটা পঁচিশ নাগাদ আচমকাই রাজভবনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অ্যাসেম্বলি গেট দিয়ে রাজভবনে প্রবেশ করেন তিনি। সূত্রের খবর, বর্তমানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। তবে ঠিক কোন বিষয়ে রাজ্যের সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক প্রধানের আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। সন্ধে ছ’টা সতেরো নাগাদ অ্যাসেম্বলি গেটের বিপরীত রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles