ফ্ল্যাশব্যাক টোয়েন্টি টোয়েন্টি : পাঁচ

সরোজ খান
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি সকলের ‘মাস্টারজি’। কেবল মাত্র কোরিওগ্রাফি করেই থেমে থাকেননি তিনি। নৃত্য জগতের অন্যতম পথিকৃৎ সরোজ খান বলিউড ডান্স কোরিওগ্রাফিতে এনেছিলেন অন্যতম সফল এক ধারা। একের পর এক সুপার ডুপার হিট সিগনেচার ডান্স মুভমেন্ট দিয়ে গেছেন বলিউডকে। সরোজ খানের পেশাদার জীবনের সাফল্য যেন রুপোলি দুনিয়ার রূপকথার খোলা খাতা। তাঁর জীবনে যতই ঝড় আসুক, কোথাও এতটুকুও ছন্দপতন নেই।

সরোজ খানের আসল নাম নির্মলা নাগপাল। জন্ম ১৯৪৮-এর ২২ নভেম্বর। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন মাত্র তিন বছর বয়সে। বলিউড ডান্সের কোরিওগ্রাফিতে এক অন্য নজির সৃষ্টি করেছিলেন সরোজ খান। যা ১০০ বছরের সিনেমার ইতিহাসে চূড়ান্ত সফল। সহকারী কোরিওগ্রাফার হিসাবে বহুদিন কাজ করার পর অবশেষে ‘গীতা মেরা নাম’ (১৯৭৮) সিনেমার মাধ্যমে একজন স্বতন্ত্র কোরিওগ্রাফার হিসাবে প্রথম ব্রেক পান সরোজ। এরপর থেকেই তাঁর কোরিওগ্রাফি পরিচালকদের মন জয় করতে থাকে, ডাক পান নতুন নতুন ছবিতে। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’-র পর রাতারাতি সারা দেশের মানুষের মধ্যে অলোচিত হতে থাকে তাঁর নাম। তারপর থেকে কোরিওগ্রাফার হিসেবে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। মাধুরী দীক্ষিত, শ্রীদেবী, করিনা কাপুর খান, ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, শিল্পা শেঠি, কাজল, কঙ্গনা রানাওয়াত, আলিয়া ভট্ট এবং আরও অনেক বি-টাউন অভিনেত্রীরা নেচেছেন তাঁরই কোরিওগ্রাফিতে। তাঁর কোরিওগ্রাফির গুণেই পার্শ্বচরিত্র থেকে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতেন নায়িকারা। তিনি চলে গেলেন ৮ জুলাই।

***

জগদীপ
অভিনেতা সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ জাফরি। তিনি অবশ্য জগদীপ নামেই সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা যথেষ্ট অভাবেই কেটেছিল তাঁর। মাথার উপর বাবা না থাকায় ছোটথেকেই উপার্জন করেছেন জগদীপ। রমেশ সিপ্পির ছবি ‘শোলে’-র সুরমা ভোপালি চরিত্রেই জন্যই সবথেকে বেশি জনপ্রিয় ছিলেন জগদীপ। ছবিতে তাঁর কণ্ঠে বিখ্যাত সংলাপ ‘মেরা নাম সুরমা ভোপালি অ্যায়সে হি নেহি হ্যায়’ এখনও অনুরাগীদের মনে গেঁথে রয়েছে।

কমেডি ছবি ‘আন্দাজ আপনা আপনা’-য় সলমন খানের বাবা বাঁকেলালের ভূমিকাতেও তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বেশিরভাগ ছবিতে কৌতুক চরিত্রেই ধরা দিয়েছেন অভিনেতা। রামসে ব্রাদার্সের হরর ছবি ‘পুরানা মন্দির’-এও কাজ করেছেন তিনি। কুরবানি এবং শাহেনশাহ-র মতো ছবিতে জগদীপের অভিনয় নজর কেড়েছিল। শিশুশিল্পী হিসাবে জগদীপকে দেখা গিয়েছে প্রখ্যাত পরিচালক বিমল রায়ের ‘দো বিঘা জমিন’ এবং গুরু দত্তর ‘আর পার’ ছবিতে।

ছয় দশকের লম্বা কেরিয়ারে প্রায় ৩০০-র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন জগদীপ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ৮ জুলাই তাঁর বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শেষবার তাঁকে দেখা গেছে ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি গলি গলিমে চোর হ্যায়’তে। তিনি রেখে গেলেন অভিনেতা জাভেদ জাফরি, নাভেদ জাফরি-সহ পাঁচ ছেলেমেয়েকে।

***

অমলাশঙ্কর
নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্করের জন্ম ১৯১৯ সালের ২৭ জুন। অমলার বাবা অক্ষয় নন্দী ছিলেন একজন গয়না ব্যবসায়ী। মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৩১ সালে বাবার হাত ধরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশানাল কলোনিয়াল একজিবিশনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সেই একজিবিশনে গিয়ে প্রথম পরিচয় হয় শঙ্কর পরিবারের সঙ্গে। কিছুদিন পর থেকেই তিনি উদয়শঙ্করের কাছে নাচের তালিম নিতে শুরু করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৪২-এ উদয়শঙ্করের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন অমলা।

গত শতাব্দীতে চারের দশক থেকেই উদয়শঙ্কর ও অমলাশঙ্কর জুটি সারা বিশ্বে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। উদয়শঙ্কর পরিচালিত ‘কল্পনা’ চলচ্চিত্রে উমার চরিত্রে অমলাশঙ্করের নৃত্যাভিনয় প্রশংসিত হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা হয়ে ওঠেন পৃথিবীর বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী দম্পতিদের মধ্যে অন্যতম। উদয়শঙ্করের ডান্স গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ-বিদেশে ঘুরে অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে থাকেন। শুধু নৃত্য শিল্পী হিসাবেই নন অমলাশঙ্কর একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পীও ছিলেন। ২৪ জুলাই, ২০২০ কলকাতার বাড়িতে ১০১ বছর বয়সে ঘুমের মধ্যেই চলে যান নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্কর চৌধুরী।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles