Html code here! Replace this with any non empty raw html code and that's it.

বাইরে-দূরে : কুমায়ুনের পাহাড়ে ঘেরা চৌকরি-মুন্সিয়ারি-ঝালতোলা

সমরেন্দ্র দাস

এমন এক দেশে আমরা বাস করি যেখানে বেড়ানোর জায়গার কোনও অভাব নেই। ভারতজুড়ে আছে নানান সুন্দর সব স্থান। এককথায় বলতে গেলে কী নেই ভারতে? পাহাড় যেমন আছে তেমনই পাওয়া যাবে সমুদ্র। এক এক জায়গায় সমুদ্র সৈকত আবার এক এক রকম। আছে মরুভূমি, আগ্নেয়গিরি এবং বিভিন্ন অরণ্য। আছে কত বৈচিত্র্যময় ঐতিহাসিক দ্রষ্টব্য স্থান। যার যেমন অভিরুচি তিনি সেখানে যাবেন।

যারা একটু দূরে যেতে চান তাদের হয়তো সারাটা বছরই জল্পনা-কল্পনায় কেটে যায় কোথায় যাবেন সেই ভাবনা নিয়ে। সকাল-দুপুর-রাত্রি কাজের মধ্যেও তাদের মনটা সর্বদাই যেন উড়ুউড়ু। তার সঙ্গে চলে তথ্য সংগ্রহ।

সাধারণত পর্যটকরা পাহাড়ে পাড়ি জমান গ্রীষ্মকালে। কিছু মানুষ আবার পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগ্রহী হোন শীতকালে। তারা মনে করেন শীতকালে যেখানে বরফ পড়ে তার অন্যরকম আকর্ষণ। সেইসব কথা মনে রেখে এবারে আমাদের নির্বাচন– কুমায়ুন। আর কুমায়ুন বলতে সাধারণত পর্যটকের সামনে ভেসে ওঠে কয়েকটি নাম– মুক্তেশ্বর, জাগেশ্বর, দীনাপানি, বিনসর, ধওলছিনা, রানিখেত, মায়াবতী আশ্রম, শ্যামলাতাল, নৈনিতাল, কৌশানি, আলমোড়া, পিথোরাগড়, করবেট রিজার্ভ ফরেস্ট প্রভৃতি।

এখন কিছু ভ্রমণপিপাসু মানুষ একটু অন্য স্বাদ পেতে চাইছেন পাহাড়ি স্থানে। তারা তথাকথিত গুরুত্বপূর্ণ জায়গার বদলে পছন্দ করেন একটু হাটকে স্থান। ট্যুরিস্টদের একগাদা ভিড় থেকে সরে গিয়ে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেতেই তারা বেশি উৎসাহী। তাদের জন্য আমাদের নির্বাচন– চৌকরি, মুন্সিয়ারি এবং ঝালতোলা।

চৌকরি
কুমায়ুনের খ্যাতি আসলে হিমালয় দর্শনের জন্য। সেই হিসাবে কৌশানি বহু মানুষেরই প্রিয়। যতই নিত্যনতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠুক না কেন কৌশানির লোকপ্রিয়তা তাতে একটুও টাল খায়নি। এই কৌশানি থেকে চৌকরি যেতে গোমতী নদীর তীরে বৈজনাথ পড়ে। যা কুমায়ুনের প্রাচীন জনপদের অন্যতম।

এখানে সবচাইতে প্রখ্যাত মন্দিরের নাম বৈজনাথ শিবমন্দির। আর ভারতে প্রচুর শিবভক্ত মানুষের বাস। এই মন্দিরের স্থাপত্যরীতি এবং কারুকার্য যেকোনও মানুষকেই উদ্দীপিত করবে। আবার বৈজনাথ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বাগেশ্বরকে বহু মানুষই টেম্পল সিটি বা মন্দিরের শহর বলে থাকেন। সরযূ এবং গোমতী নদীর সঙ্গমস্থলে এই শহর। পুরাকালে এখানে নাকি মার্কন্ডেয় মুনির আশ্রম ছিল। বাগেশ্বরের নামমাহাত্ম্য অবশ্য শৈবতীর্থ হিসাবে। পুরো শহরজুড়ে শুধুই মঠ আর মন্দির। তারই মধ্যে বাগনাথ মহেশ্বরের মন্দিরের খ্যাতি বা প্রসিদ্ধি অনেক বেশি। এছাড়াও আরও যেসব মন্দির আছে যেমন বাণেশ্বর মন্দির, নীলেশ্বর মহাদেব মন্দির, ভৈরব মন্দির, দুর্গা মন্দির, কালিকা মন্দির এবং ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরের খ্যাতি বেশি। বাগেশ্বর থেকে চৌকরি যাওয়ার পথে পড়বে দেবী চণ্ডীকার মন্দির। মন্দিরে রয়েছে সিংহের উপর শ্বেত মর্মরের চতুর্ভুজা মাতৃমূর্তি।

বাগেশ্বর থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে আছে ছোট্ট গ্রাম বিগুল। চির, পাইন, ওক, রডোডেনড্রনের ছায়ায় ঘেরা এই গ্রামের উচ্চতা ৬৭৫০ ফুট। এখানে আধুনিক রিসর্ট বহু প্রকৃতিপ্রেমীদের নির্ভরতার স্থান। বিশেষ করে নববিবাহিত দম্পতির মধুচন্দ্রিমা যাপনের এক আদর্শ ও মনোরম জায়গা। বিগুল থেকে চৌকরি হল একেবারে হাতের নাগালের মধ্যে মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এখানে আগে পাহাড়ের ঢালে ছিল চা-বাগিচা। চা-বাগান বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকবছর।

পরিত্যক্ত চা-বাগিচায় কুমায়ুন মন্ডলবিকাশ -এর আধুনিক সুবিধাযুক্ত রেস্টহাউস। চৌকরি থেকে সারসার ত্রিশূল, নন্দাদেবী, পঞ্চচুল্লির শিখর জ্বলজ্বল করে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এসব রেঞ্জ দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে বিকেল– কতবার যে রং বদল হয় এসব পর্বত শিখরগুলিতে! বারবার দেখেও যেন আশ মেটে না। ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন থাকলে দেখা মিলবে নাম-না-জানা রঙিন সব পাখিরও। তাই এখানে এলে বাইনোকুলার অবশ্যই আনবেন।

বিকেলের বেলাশেষের আলোয় হন্টনে ঘুরে আসতে পারেন কাছেই পরমহংস অড়গড়ানন্দজির আশ্রম। খুব একটা বেশি নয়, চৌকরি থেকে চার কিলোমিটার দূরে দেখতে পারেন কস্তুরিমৃগ সংরক্ষণকেন্দ্র। তবে মনে রাখবেন এখানে যেতে হলে কিছুটা পথে চড়াইভূমি পার হতে হবে।

ছবি ঋণ : ইন্টারনেটের সৌজন্যে
[চলবে]

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles