মাসিকের সমস্যা থেকে দূরে থাকুন, মেনে চলুন এই নিয়মগুলো

নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে মাসিকের সমস্যা সব মেয়েদের। সময়মতো পিরিয়ড না হলে অনেকের মনেই চিন্তা বাসা বাধে। পিরিয়ডস ঠিক সময়ে হওয়া কিংবা না হওয়া কতটা স্বাভাবিক জেনে নিন এক ঝলকে। প্রতি ২৮ থেকে ৩৫ দিন পর পর মাসিক হয়ে থাকে। ১২ থেকে ৫৫ বছরের মহিলাদের ক্ষেত্রে এই একই সমস্যা দেখা যায়।কখনও এক সপ্তাহ পরে হতে পারে পিরিয়ড। আবার মাঝে মাঝে এক মাস কিংবা আরও বেশি সময় পরও হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে যদি পিরিয়ড না হয় তাহলে অনেক দুশ্চিন্তায় থাকেন। বিশেষ করে বিবাহিত যাঁরা। তবে সঠিক নিয়ম জানা থাকলেই নিজেরাই আটকাতে পারবেন মাসিকের নানা সমস্যা। জেনে নিন ওষুধ ছাড়া আরামের উপায়।

প্রত্যেকদিন ব্যায়ামের অভ্যাস: অনিয়মিত মাসিকের হাত থেকে রক্ষা পেতে কথা বলুন যোগা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। ২০১৩-য় আমেরিকায় হওয়া এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০-৩৫ মিনিট যোগব্যায়াম করলে ৬ মাসের মধ্যেই হরমোনঘটিত কারণে ঘটা পিরিয়ডের সমস্যা অনেকটাই কমে। মানসিক অবসাদ কাটাতেও সাহায্য করে যোগা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তাই শুরু করতেই পারেন তা।

ওজন বেড়ে যাওয়া: এটি কিন্তু পিরিয়ডের জটিলতা ডেকে আনে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুবই জরুরি। অনেক সময় পলিসিস্টিক ওভারির কারণেও ওজন বেড়ে যায় ও পিরিয়ডের সমস্যা দেখা যায়। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন:  অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। খাবার সংরক্ষিত করে রাখার জন্য ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ সহজেই শরীরের ওজন বাড়ায়। তা থেকেও কিন্তু পিরিয়ডের সমস্যা বাড়ে। তাই শরীরচর্চা, দৌড়োদৌড়ি ছাড়াও খাবারের বিষয়েও সচেতন থাকুন।

আদা খান নিয়মিত:  আদার জিঞ্জেরল ও সোগাওল রক্তের প্রাবল্য কমায়। ফলে পিরিয়ডের যন্ত্রণার ভাগও কমে অনেকটাই। তাই পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও যন্ত্রণা প্রতিরোধে রান্নায় আদা যোগ করুন। আদা ভেজানো জলও ডায়েটে রাখতে পারেন। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পিরিয়ডসের সময় ৭৫০-২০০০ মিলিগ্রাম আদাগুঁড়ো পিরিয়ডের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় সহজেই। আদার জিঞ্জেরল ও সোগাওল রক্তের প্রাবল্য কমায়। ফলে পিরিয়ডের যন্ত্রণার ভাগও কমে অনেকটাই। তাই পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও যন্ত্রণা প্রতিরোধে রান্নায় আদা যোগ করুন।

দারচিনি গুঁড়ো: আদার মতোই দারচিনি গুঁড়োও এই অসুখ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। পলিসিস্টিক ওভারির জটিলতা কমাতে, পিরিয়ডের সময় গা বমি ভাব দূর করতে ও যন্ত্রণাদায়ক রক্তপাত রুখতে দারচিনি অত্যন্ত কার্যকর। অনিয়মিত পিরিয়ডকে নিয়মিত করতেও দারচিনি কাজে আসে।

আনারস: পিরিয়ডের যন্ত্রণা কমাতে পারে আনারসও। আনারসে থাকাব্রোমেলিন অ্যান্টিইনফ্লেমটরি। প্রাকৃতিক বেদনানাশক হিসাবেও এর সুনাম আছে। তাই গরমকালে পিরিয়ডের সমস্যা ও ব্যথা থেকে দূরে থাকতে আনারস খান নিয়ম করে।

অসুস্থতার কারণে: ঠাৎ জ্বর, সর্দি, কাশি বা দীর্ঘায়িত অসুস্থতার কারণে সময়ে পিরিয়ড বিলম্ব হতে পারে। তবে তা অস্থায়ীভাবে ঘটে এবং একবার আপনি রোগ থেকে সেরে উঠলে আপনার পিরিয়ড আবার নিয়মিত হয়ে যায়।

জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি: জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি এবং অন্যান্য কিছু ওষুধও পিরিয়ড চক্র পরিবর্তন করে। এই জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরে, পিরিয়ড কখনও দেরিতে হয় বা খুব দ্রুত আসে বা হওয়া বন্ধ করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

থাইরয়েড: থাইরয়েডের কারণে আপনার পিরিয়ড চক্রে বিপাকে পড়তে পারে। আপনার যদি থাইরয়েড সম্পর্কিত কোনও সমস্যা থাকে তবে এটি পিরিয়ডকে প্রভাবিত করবে। আপনার যদি থাইরয়েড সমস্যা থাকে তবে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য না থাকা  : আমাদের গলার নিচে যেই থাইরয়েড গ্রন্থি থাকে সেটি শরীরের সব কার্যপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অথবা কম থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় তাহলে শরীরের পুরো কার্যপ্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়ে এবং এক্ষেত্রে পিরিয়ডে অনিয়ম হতে পারে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম: পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি হরমোনাল সমস্যা। শরীরের জরুরি তিনটি হরমোন এস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং টেসটোস্টেরন উৎপাদনের মাত্রা কমে যায় পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হলে। ফলে পিরিয়ডে দেরি হয়। পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে নারীদের মুখে এবং স্তনের চারিদিকে লোমের আধিক্য বেড়ে যেতে পারে। এই সমস্যায় যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

 

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles