একদিন আগেই কৃষকদের বৈঠকে ডাকলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বনধের দিনেই কৃষক-কেন্দ্র বৈঠক

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি : বুধবার কৃষকদের সঙ্গে আবারও বৈঠকের কথা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। যদিও তা একদিন এগিয়ে নিয়ে এল নরেন্দ্র মোদি সরকার। ফলে দেশব্যাপী বনধের দিনেই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিক্ষোভরত কৃষকরা। আজ সন্ধ্যা ৭টায় কৃষক নেতাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কৃষক নেতা। দিল্লি সংলগ্ন যে চারটি সীমানায় বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন, তাদের নেতারা কেন্দ্রের বৈঠকে যোগ দিতে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। এদিনের বৈঠকে যোগ দেবেন মোট ১৪ জন কৃষক নেতা, তাঁদের মধ্যে ১০ জন রয়েছেন পঞ্জাবের। বৈঠকে যোগ দেবেন হান্নান মোল্লা, গুরণম সিং, শিব কুমার কাক্কা, রাকেশ টিকাইত।

এদিনের বৈঠকে নিয়ে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকাইত বলেন, “আজ সন্ধ্যা ৭টায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক। আমরা এখন সিঙ্ঘু সীমানায় যাচ্ছি এবং সেখান থেকে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিতে যাব।” গত ২৬ নভেম্বর “দিল্লি চলো”র ডাক দিয়ে হরিয়ানা, পঞ্জাব থেকে রওনা হন কৃষকরা। পঞ্জাব সীমানায় কোনও সমস্যা না হলেও হরিয়ানায় বিক্ষোভরত দিল্লিগামী কৃষকদের আটকে দেয় মনোহরলাল খাট্টারের পুলিশ। হরিয়ানা-দিল্লি সীমানায় পুলিশএর সঙ্গে রীতিমতো সংঘর্ষ, পাথর ছোড়াছুড়ি হয় কৃষকদের। দিল্লির চারদিকে সীমানায় ধরনায় রয়েছেন কৃষকরা। গত বাজেট অধিবেশনে আনা কৃষি বিল প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁদের ধরনা চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের আনা বিলের প্রতিবাদেই আজ দেশব্যাপী বনদের ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। তাতে সমর্থন মিলেছে রাজ্যের শাসদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের।

গত রবিবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পঞ্চম দফার বৈঠক হয় কৃষক নেতাদের। সেদিনও কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় থাকেন তাঁরা। আগেরবারের মতোই সেদিনও সরকারের আয়োজন করা মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করেননি কৃষক নেতারা। নিজেদের বিক্ষোভস্থলেই তৈরি করা খাবার দিয়েই মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন কৃষক নেতারা। বিল প্রত্যাহার করা হবে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর ছাড়া আর কোনও শর্ত বা ছাড়ের কথা শুনতে নারাজ কৃষক সংগঠনগুলি। সোমবার কৃষক নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তারপর থেকেই তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে আম আদমি পার্টি। যদিও তা নাকচ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বরং মুখ্যমন্ত্রী নিজের ইচ্ছেমতো কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবেন বলেই জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles