টিকা এল দেশে : কোভিশিল্ড-কোভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র ডিসিজিআই-এর

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

নতুন বছরের প্রথম তিনদিনেই ধাপে ধাপে করোনার অন্ধকার থেকে আশার আলো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠল। তৃতীয় দিন অর্থাৎ রবিবার ছুটির সকালে এল চূড়ান্ত সুখবর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারত বায়োটেকের টিকায় চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া। ফলে দেশে করোনার বিরুদ্ধে প্রথম টিকা দেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনিকার ‘কোভিশিল্ড’ এবং ভারত বায়োটেকের তৈরি ‘কোভ্যাক্সিন’। আপাৎকালীন পরিস্থিতিতে এই দুই টিকা ব্যবহারে সম্মতি দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ কমিটি।

এদিন সকালে সাংবাদিক সম্মেলনে ড্রাগ কনট্রোলার জেনারেল ভিজে সোমানি জানান, সিরাম ইনস্টিটিউট এবং ভারত বায়োটেক, দুই সংস্থাই ট্রায়াল পর্বের তথ্য জমা দিয়েছে এবং তারা দুইজনেই “বিধি মেনে” ব্যবহারে ছাড়পত্র পেয়েছে। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে ভিজে সোমানি জানান, “ন্যূনতম সুরক্ষার ঘাটতি থাকলেও আমরা কখনই তার অনুমোদন দিইনি। এই দুটি টিকা ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত।”

ভিজে সোমানি বলেন, “এই দুটি টিকা দেওয়া হবে দুবার অর্থাৎ দুটি ধাপে, এবং আরেকটি টিকা, ক্যাডিলার থাকবে তিনটি ডোজ।” বছরের প্রথম দিনেই কোভিশিল্ডের আপাৎকালীন ব্যবহারে অনুমোদন আসে এবং দ্বিতীয় দিনে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের জরুরিভাবে ব্যবহারে ছাড়পত্র দেয় সরকারের বিশেষ প্যানেল। অপেক্ষা ছিল চূড়ান্ত ছাড়পত্রের। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানান, প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার বিশেষে ৩ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। এই পর্যায়ে ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২ কোটি করোনা যোদ্ধাকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। তারপর বয়স্ক এবং অন্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের টিকাকরণ করা হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ভারতে টিকায় চূড়ান্ত ছাড়পত্রে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডিজিসিআই-এর ঘোষণার পরেই প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করেন, “সিরাম ইনস্টিটিউট এবং ভারত বায়োটেকের টিকায় ছাড়পত্র দিয়ে দেশকে স্বাস্থ্যসম্মত এবং করোনামুক্ত দেশ গড়ার রাস্তা সুগম করেছে। আমাদের দেশ এবং কঠোর পরিশ্রম করা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের অভিনন্দন।” ডিজিসিআইকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এর ফলে আরও শক্তি ও উৎসাহ জোগান আসবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “প্রত্যেক ভারতবাসীর এটা গর্বের বিষয়, যে দুটি টিকা ভারতে আপাৎকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে সেগুলি ভারতে তৈরি। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয়, আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন পূরণে ইচ্ছুক।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কাজ করে যাওয়ার জন্য আমাদে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত্ব, স্যানিটেশন কর্মী, এবং সমস্ত করোনা যোদ্ধাকে তাঁদের অসাধারণ কাজের জন্য শ্রদ্ধা জানাই। বহু জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles