জম্মু ও কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচনে জয় গুপকার জোটের

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়ার পর, এই প্রথম নির্বাচন হল উপত্যকায়। প্রথম স্থানীয় নির্বাচনেই জয় ফারুক আবদুল্লার নেতত্বাধীন গুপকার জোটের। বৃহস্পতিবার রাত ১১.২০ মিনিট পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয় নির্বাচনে ফারুক আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন সাতটি রাজনৈতিক দলের জোট জয়লাভ করেছে ৯০টি আসনে, অন্যদিকে, বিজেপি ৭০টি আসনে জয় পেয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল আসতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫৬টি আসনে জয় হয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্সের, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২৬টি, কংগ্রেস ২১টি, জম্মু ও কাশ্মীর আপনা পার্টি ১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। জম্মু কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্স পেয়েছে ৬টি আসন, জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট ৩টি আসনে এখনও পর্যন্ত জয় পেয়েছে। ৪৩টি আসনে নিজেদের জয় হাসিল করেছেন নির্দল প্রার্থীরা। শ্রীনগরে সমস্ত আসনেই গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে জম্মু কাশ্মীর আপনা পার্টি ৩টি আসনে জয় পেয়েছে, প্রত্যেকে একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি, পিডিপি, এনসি, জেকেপিএম বা জম্মু কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট। শ্রীনগরে সাতটি আসনে জয় হাসিল করেছেন নির্দল প্রার্থীরা। বারামুল্লার ১১টি আসনের মধ্যে পিডিপি, এনসি, কংগ্রেস এবং জম্মু কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্স ২টি করে আসনে জয়লাভ করেছে এবং ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে নির্দল।

ভোটের ফলাফলে উচ্ছ্বসিত পিডিপি নেত্রী তথা জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি ট্যুইট করেন, “আজ ডিডিসি নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুপকর জোটকে ব্যাপকভাবে ভোট দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দারা ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। তাঁরা ভোট দিয়েছেন গুপকর জোটকে, যারা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার পক্ষে।’’

বালামাহতে জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থী আজাজ হুসেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া, “আমরা গুপকর জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি এবং আজ এই আসনে বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে। আমি জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানাই।” আজাজ হুসেনের জয়ের মধ্য দিয়েই কাশ্মীর উপত্যকায় দল খাতা খুলেছে বলে মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা শাহনেওয়াজ হুসেন।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি ঘটানো এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতির মতো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ বহু রাজনীতিবিদকে আটকে রাখার পর এই প্রথম নির্বাটনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছিল। গুপকর রোড, অর্থাৎ যেখানে এই তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন রয়েছে, সেখানে এই ফলাফলের কোনও বিজয়োৎসব হবে না। গুপকর জোটের হয়ে প্রচারে নামতে দেখা যায়নি উল্লেখিত তিন নেতার কাউকেই। তাঁদের অভিযোগ, প্রার্থীদের হয়ে প্রাচর করতে তো দেওয়া হচ্ছেই না, উপরন্তু তাঁদের ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তাবাহিনী। যদিও ,সেই অভিযোগ খণ্ডন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন করাই চ্যালেঞ্জ ছিল। সেদিক থেকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সবরকম বিধিনিষেধ মেনেই নির্বাচন করা হয় কাশ্মীর উপত্যকায়। ফলাফলের পরেও সেই বিধিনিষেধ থাকবে বলে জানিয়েছেন জম্মুর ডেপুটি কমিশনার সুষমা চৌহান। কোনও রকম বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles