ফ্ল্যাশব্যাক টোয়েন্টি টোয়েন্টি : তিন

উষা গঙ্গোপাধ্যায়
সুদূর রাজস্থানের জোধপুর থেকে তিনি যখন কলকাতায় আসেন সেটা ছিল কৈশোরকাল। পরবর্তী সময়ে এই কলকাতাই হয়ে ওঠে তাঁর সংস্কৃতিচচার্র ক্যানভাস। জন্মসূ্ত্রে হিন্দিভাষী উষা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর নাট্যদল ‘রঙ্গকর্মী’ প্রায় সমার্থক হয়ে ওঠে কলকাতার নাট্যজগতে। ১৯৭৫ সালে তৈরি করেন নিজস্ব নাট্যদল। ‘হোলি’ ,’কোর্ট মার্শাল’, ‘রুদালি’, ‘মহাভোজ’, ‘মুক্তি’, ‘চণ্ডালিকা’ নাটকগুলিতে বৈষম্যবিরোধী ও নারী অধিকার রক্ষার মুক্তস্বর হয়ে ওঠে। ২৩ এপ্রিল এই প্রথিতযশা নাট্যকর্মী প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

***

অজিত যোগী
দীর্ঘ রোগভোগের পর চলতি বছরের ২৯ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অজিত যোগী। মৃত্যুর আগে দু’বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। তারপর প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি অজিত যোগীকে।

যোগীর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল আমলা হিসাবে। প্রথমে আইপিএস, তারপরে আইএএস হয়েছিলেন। মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন সিংহ রাজনীতিতে এনেছিলেন অজিত যোগীকে। ২০০০ সালে মধ্যপ্রদেশ ভেঙে ছত্তিশগড় রাজ্য গঠনের পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। শুরু থেকেই নেহরু-গান্ধি পরিবারের আস্থাভাজন ছিলেন অজিত যোগী। কংগ্রেসের দুঁদে রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০০৩-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন তিনি।

এরপর ছত্তিশগড়ের দখল নেয় বিজেপি। ওই বছর নির্বাচনে হারার পর থেকে বিতর্কে নাম জড়ায় যোগীর। একটি অডিয়ো টেপ প্রকাশ করে বিজেপি অভিযোগ করেছিল, গেরুয়া শিবিরের বিধায়ক ভাঙাতে টাকার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন যোগী। সেই কারণে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তবে কয়েকমাস পরে ফের কংগ্রেসে ফিরে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়ান। ২০০৪ সালে জিতে কংগ্রেসের সাংসদও হয়েছিলেন। ওইবছর একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জীবনের বাকিটা সময় হুইলচেয়ারে কাটাতে হয় অজিত যোগীকে।

এরপর ২০১৬ সালে কংগ্রেস ছেড়ে আলাদা দল গঠন করেন তিনি। দলের নাম দেন জনতা কংগ্রেস ছত্তিশগড় (জে)। তবে প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার দল বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। ২০১৮ সালে কংগ্রেস ফের ছত্তিশগড়ে ক্ষমতায় আসে। ধীরে ধীরে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েন দুঁদে এই রাজনীতিক।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles