ভারত বায়োটেকের কো-ভ্যাক্সিনে ছাড়পত্র দিল প্যানেল, অপেক্ষা চূড়ান্ত ছাড়পত্রের

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

বছরের প্রথম দিনেই সুখবর পেয়েছে দেশবাসী। অক্সফোর্ডের তৈরি করা করোনা ভ্যাক্সিনে ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া। এবার বছরের দ্বিতীয় দিনে হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনেও মিলল প্যানেলের ছাড়পত্র। শনিবার সন্ধ্যায় সরকার গঠিত প্যানেলের তরফে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে এর কঠোরভাবে আপাৎকালীন ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছে। যদিও দেশে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যাবে কিনা, তা নিয়ে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেবে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া।

কোভ্যাক্সিন তৈরি কাজে যুক্ত অধ্যাপক ডা. সবিতা বার্মা জানিয়েছেন ১০ মিলিয়ন টিকা প্রস্তুত রয়েছে ভারত বায়োটেকে। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিন কতটা কার্যকরী, তার রিপোর্ট কার্ড এখনও প্রকাশ করেনি ভারত বায়োটেক। তবে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, তাতে কোনও মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং তার যথেষ্ঠ প্রতিষেধক ক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, সহনশীল সুরক্ষিত ফলাফল রয়েছে, এবং এর মাধ্যমে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির আয়ু ছয় থেকে প্রায় ১২ মাস। পরবর্তী পর্যায়ে যদি প্রমাণ হয়, যে এই টিকার যথেষ্ঠই সুরক্ষিত, তাহলেই তা চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাবে।

ভ্যাকসিনের জরুরিভাবে ব্যবহারের অনুমোদন পেতে ভারতের দুটি সংস্থা আবেদন করে। তাদের মধ্যে একটি হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক এবং অপরটি এসআইআই। তাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার দিল্লিতে বৈঠকে বসে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিনকে জরুরিভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কোভ্যাক্সিন টিকা প্রস্তুত করে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক।

শুক্রবার দেশবাসীর মুখে প্রথম হাসি ফুটিয়ে অক্সফোর্ডের তৈরি করা কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই টিকা তৈরি করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, এবং ভারতে সেটি তৈরি করবে সিরাম ইনস্টিটিউট। ইতিমধ্যেই ৫০ মিলিয়ন ডোজ টিকা প্রস্তুত করে ফেলেছে সিরাম ইনস্টিটিউট। বেশ কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে তাদের ভ্যাকসিনে শুক্রবারই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের তরফে বলা হয়েছে, প্রত্যেক টিকা গ্রহণকারীকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আগে থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা লিখিতভাবে জানাতে হবে। প্রত্যেক ১৫ দিনে উৎপাদনকারী সংস্থাকে রিপোর্ট দিতেও নির্দেশ দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। এরপরেই শনিবার দেশজুড়ে করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাইরান করানো হয়। টিকা প্রদানের প্রস্ততি খতিয়ে দেখতে এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।

শনিবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সমস্ত মানুষকেই বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান করা হবে। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এক কোটি এবং সামনের সারি থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। বাকি ২৭ কোটি মানুষকে কীভাবে টিকা প্রদান করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles