দিল্লিতে অরুণ জেটলির মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সৌরভ-অমিত শাহ

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম নেতা অরুণ জেটলির পূর্ণাবয়ব মূর্তি দিল্লির ডিডিসিএ অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (পূর্বতন ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়াম) উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলার মহারাজ। হাই প্রোফাইল ব্যক্তিত্ত্বদের মাঝেও ক্যামেরার নজর কাড়লেন বেহালার বাসিন্দা তথা বিসিসিআই সভাপতি।

এদিন অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রাজনীতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সমাবেশ ঘটে। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়, অরুণ জেটলির স্ত্রী সঙ্গীতা জেটলি, পুত্র ও কন্যা রোহন জেটলি, সোনালি জেটলি, আইপিএল কমিটির চেয়ারম্যান রাজীব শুক্ল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, গৌতম গম্ভীর, শিখর ধাওয়ান-সহ বিশিষ্টরা। তবে ক্যামেরার ঝলকানির মূল লক্ষ্য ছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়কই।

একদিন আগেই রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে রাজভবনে বৈঠক করেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির তরফে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে মুখ করা হতে পারে বলে যখন জল্পনা, সেই সময়ে রাজভবনে তাঁর বৈঠক ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্টতই পুরো বিষয়টিকেই সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে জানিয়ে দিয়েছেন। দিল্লিতেও তিনি বলেন, “যদি রাজ্যপাল দেখা করতে চান, তাহলে দেখা করা যেতেই পারে। এটা এই পর্যন্তই।” এদিনের অনুষ্ঠানে অরুণ জেটলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেও রাজনৈতিক ভবিষ্যত সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি সৌরভ। যদিও একাধিকবার অমিত-পুত্র জয় শাহের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে বিজেপির অন্দরমহলের তাঁর সম্পর্ক যে দিনের পর দিন সুদৃঢ় হচ্ছে, তা পরিষ্কার।

এদিন প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করে অমিত শাহ বলেন, “এক শ্রেণির মানুষ রয়েছেন, যাঁরা খেলেন। দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ, যাঁরা খেলার পরিবেশ তৈরি করেন। তাঁদের ভূমিকাও ব্যাপক অংশে থাকে। সেই জন্যই আমরা এই মূর্তি উন্মোচন করলাম।” গত বছরের অগস্টে প্রয়াত হন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা ডিডিসিএ প্রধান অরুণ জেটলি। তারপরেই দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলার নাম বদল করে অরুণ জেটলির নামে করার ঘোষণা করে বিজেপি। যদিও তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি লিখে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বিষেণ সিং বেদি। রোহন জেটলিকে লেখা চিঠিতে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান এবং তাঁর নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেন। একইসঙ্গে চিঠিতে “ক্রিকেটারদের থেকে প্রশাসকদের এগিয়ে রাখার” অভিযোগ করে প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার জানান, “সংসদের দায়িত্ব তাঁর সমৃদ্ধিকে স্মরণে রাখা।’’

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles