কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

বিক্ষোভ যতক্ষণ না মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, কিংবা কোনও সম্পত্তি নষ্ট না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত তা সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে। দিল্লিতে কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়ে দিল, আলোচনা না করে শুধুমাত্র পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষকদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য বোঝা সম্ভব নয়। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে জানান, দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা খুঁজে বের করতে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের কথা ভাবছে শীর্ষ আদালত।

এ দিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, কৃষকদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। তারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে মানুষের ক্ষতি না করে যাতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয় তার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলবে বলে জানায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, ‘‘যতক্ষণ না মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘ্যাত ঘটাচ্ছে বা সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত কৃষকদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সাংবিধানিক। এটা পুরোপুরি সঠিক প্রতিবাদ। তবে তার উদ্দেশ্য বোঝা যাবে না, যদি তারা আলোচনা না করে ধরনা চালিয়ে যায়। কেন্দ্র ও কৃষকদের আলোচনা প্রয়োজন।’’

এরপরই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ কমিটির কথা ভাবছি যার কাছে দু’পক্ষই তাদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারবে। এই কমিটি একটি সমাধান সূত্র বের করবে যা সবাইকে মেনে চলতে হবে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলতে পারে তবে তাতে যেন সাধারণ মানুষের ব্যাঘাত না হয়।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘কারও থেকে আমাদের অহিংস আন্দোলন শিখতে হবে না।’’ কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমানায় বিক্ষোভে সামিল হাজার কৃষক। নিজেদের দাবিতে অনড় কৃষক সংগঠনগুলির এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে। যদিও আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। তবে একমাত্র কৃষি আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থােন অনড় কৃষকরাও।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles