প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানীর রাজপথে ট্রাক্টর প্যারেডের কর্মসূচি কৃষকদের

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

সোমবারের বৈঠক সফল না হলে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে রাজধানীর রাজপথে ট্রাক্টর প্যারেড বা কিষাণ প্যারেড কর্মসূচি পালন করবেন বিক্ষোভরত কৃষকরা। এমনটাই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের তরফে। প্রজাতন্ত্র দিবস এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আর এক দফার আলোচনা হবে কৃষক নেতাদের। সেদিনের বৈঠক নিস্ফলা হলে এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অলআউট প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সামিল হবেন কৃষকরা। ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর জানিয়েছিলেন, চারটির মধ্যে দু’টি বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন কৃষক নেতারা। বাকিগুলির জন্য বিশেষ কমিটি বা প্যানেল গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। তবে নূন্যমত সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে তেমন কোনও আশ্বাস মেলেনি বলে দাবি কৃষকদের। বিষয়টি সরকার গঠিত প্যানেল দেখবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।

আজ শনিবার বিকেলে হরিয়ানায় বিক্ষোভরত কৃষকদের তরফে ক্রান্তিকারী কিষাণ ইউনিয়নের নেতা দর্শন পাল বলেন, ‘২৬ জানুয়ারি জাতীয় পতাকা নিয়ে তিনি ট্রাক্টর নিয়ে কিষাণ প্যারেড করা হবে।’ তিনি জানান, ‘২৩ জানুয়ারি বিভিন্ন রাজ্যে আমরা রাজভবনের দিকে মিছিল করে যাব, এবং ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ট্রাক্টর প্যারেড করা হবে।’ তাঁর কথায়, ‘৪ জানুয়ারি আমরা আলোচনায় যোগ দিচ্ছি। ৫ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। যদি কোনও সমাধান না বেরিয়ে আসে এবং আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে ৬ জানুয়ারি আমরা কুণ্ডলি-মানেসর- -পালওয়াল এক্সপ্রেসওয়েতে আমরা ট্রাক্টর মার্চ করব। ১৫ দিন ধরে আমরা বিক্ষোভ করব। ২৩ জনুয়ারি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনে আমরা রাজভবনের বাইরে বিক্ষোভ করব।’

এখানেই শেষ নয়, দর্শন পাল আরও বলেন, ‘২৬ জানুয়ারি ট্রাক্টরে তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে আমরা বিশাল মিছিল করব। আমরা দেশের সমস্ত সদর দফতরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ডাক দেব।’ কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম বা নূন্যতম সহায়ক মূল্য নিয়ে সরকার তাঁদের ভুল বোঝাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক নেতারা। বিক্ষোভে সামিল কৃষক নেতা গুরনম সিং চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আমাদের ভুল বোঝাচ্ছে…তারা বলছে এমএসপি প্রত্যাহার করা হবে না। তবে আমাদের দাবি, তারজন্য একটি আইন তৈরি করতে হবে…এটা আমাদের অধিকার।’ তবে পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে আশাবাদী সরকার পক্ষ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, কৃষকদের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠকে, একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে এবং বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘটবে। তিনটি কৃষি বিল কৃষকদের পক্ষেই। তাঁরা ফড়েদের দাপটের অবসান ঘটিয়ে নিজেদের ধার্য করা দামে তাঁদের ফসল বিক্রি করার দাবি তুলেছেন।’

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles