কিষাণ দিবসে সিঙ্ঘু সীমানায় তৃণমূল প্রতিনিধি দল, ফোনে কথা মমতার

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি

কেন্দ্রীয় সরকারের আনা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সিঙ্ঘু সীমানায় অনশনরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল। এদিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, এবং মহম্মদ নাদিমূল হক। পাশাপাশি ফোনে অনশনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বললেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দুবার দেখা করলেন তৃণমূল নেতারা। পাশাপাশি দুবারই ফোনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনে ফোনে কথোপকথনে অনশনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে, তৃণমূলনেত্রীকে তাঁদের আন্দোলনস্থলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকদের একাংশ। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা চলাকালীনও কেন্দ্রীয় সরকারকে এই কৃষি বিল প্রত্যাহার করতে হবে বলে জোরদার দাবি জানান কৃষকরা। তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, “দেশকে যাঁরা খাদ্য জোগান দেন, সেই কৃষকরাই অভুক্ত থাকতে বাধ্য হয়েছেন, এটা খুবই দুঃখজনক।” দলের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “১৪ বছর আগে জোর করে জমি দখলের বিরুদ্ধে সিঙ্গুরের কৃষকদের ন্যায়ের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশন পালন করেছিলেন। ২০১৬-তে তাঁর অবস্থানেই সিলমোহর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।”

এর আগে কৃষকরা অনশন শুরুর সময়েই দেশবাসীকে ২৩ ডিসেম্বর কিষাণ দিবসে একবারের খাবার গ্রহণ না করার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে এই পথেই হাঁটেন হরিয়ানা, পঞ্জাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের আন্দোলনরত কৃষকরা। এছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত হরিয়ানার টোল প্লাজাকে নিঃশুল্ক করার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

গত বাদল অধিবেশনে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের অঙ্গ হিসেবে তিনটি বিল পাস করায় মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিল পাস করানোর সঙ্গে সঙ্গেই সংসদের ভিতরে বাইরে শুরু হয়ে যায় তুমুল বিক্ষোভ। ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির বিভিন্ন সীমানায় আন্দোলন শুরু করে হাজারও কৃষক। দিল্লি চলো ডাক দেওয়া হয় আন্দোলনকে আরও জোরদার করে তুলতে। যদিও দিল্লি আসার পথে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনরত কৃষকরা। সিঙ্ঘু, গাজিয়াবাদ থেকে শুরু করে চিলা সীমানায় চলছে কৃষকদের আন্দোলন, অনশন। তারমধ্যে সিঙ্ঘু সীমানায় সবচেয়ে বড় ও জোরদার আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে কৃষকদের আন্দোলন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রায় ৬ থেকে ৭ রাউন্ড আলোচনার পরেও বরফ গলেনি। আন্দোলনরত কৃষকদের জানিয়েছেন, সরকার এই আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারমধ্যেই এইনিয়ে দুবার আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles