চাকরি হারিয়ে আত্মঘাতী শিক্ষক, স্বামীর চিতায় শুয়ে পড়লেন স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: বছরের প্রথমদিনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফের ক্ষমতায় এলে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ করবেন। বিধানসভা ভোটের আগে এবার সেই প্রতিশ্রুতিকে আরও মজবুত করতে ট্যুইট সিপিএম নেতা তথা যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। রাজ্যে বিজেপি যে শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছে না, বরং বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে কর্মসংস্থানের কী হাল? এদিন সেই খোঁজও দিলেন। বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় চাকরি চলে যাওয়ায় আত্মঘাতী হয়েছেন এক শিক্ষক। আর তাঁর চিতায় শুয়ে পড়লেন স্ত্রী।

রাজ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব দুর্নীতিময়, প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে এই অভিযোগ উঠছে। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য রাজ্যে যে প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি যেগুিলই এই রাজ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। যার চরম উদাহরণ, দক্ষিণ ত্রিপুরার শিক্ষক উত্তম শিক্ষকের আত্মঘাতীর ঘটনা। ত্রিপুরায় প্রায় দশ হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত রাজ্যটি। এই ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের এক জন ছিলেন উত্তম ত্রিপুরা। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার তৃষ্ণা গাঁওপঞ্চায়েত এলাকার কমলাকান্ত পাড়ায় এই শিক্ষক তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং মা-বাবা-বোনকে নিয়ে থাকতেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই অনটনে দিন কাটাতে হচ্ছে।

স্ত্রী শেফালী জানান, সংসারের এত জনের দ্বায়িত্ব, তার ওপরে ব্যাঙ্কের ঋণ, সংসারের খরচ। এতকিছু সামলাতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে ধার দেনা হয়ে গিয়েছে। তারপর আবার ঋণের তাগাদা করে ব্যাঙ্কের নোটিস এল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন উত্তম। শনিবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন উত্তম। রাতেই পরিবারের লোকজনেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টায় তড়িঘড়ি নামিয়ে নিয়েছিল। আজ রবিবার সকালে পুলিশ গিয়ে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। দুপুরে শেষকৃত্য হয়। সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত ছিল, স্বামীর জন্য সাজানো চিতার ওপর শুয়ে পড়ে শেফালী বলতে থাকেন, “যারা আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের বিচার করতে হবে। আমাকেও স্বামীর সঙ্গে একই চিতায় পুড়িয়ে ফেল।”

দিল্লিতে কৃষকদের মতোই ত্রিপুরায় চাকরি খোয়ানো ১০,৩২৩ জন শিক্ষক চাকরির দাবিতে ৭ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার আন্দোলন করছেন। ২৭ দিন ধরে আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে অবস্থান বিক্ষোভ জারি রেখেছেন। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে অবস্থানস্থলে এসে চাকরির লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ত্রিপুরায় বাম আমলে এই শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতায় চাকরি হারান তাঁরা। তবে স্কুল পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের অ্যাড হক ভিত্তিতে নিয়োগ করার অনুমতি দেয়। ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি এই শিক্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তা রাখা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ আন্দোলনরত শিক্ষকদের।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles