বিশ্বভারতীর উপাচার্যের অবস্থান নিয়ে রাজনীতিকরণের অভিযোগ, পাল্টা বিক্ষোভে বাম ছাত্র ও ব্যবসায়ী সংগঠন

নিউজ ডেস্ক: এবার বিশ্বভারতী-বাম ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘাত। রাজ্যের তরফে ফিরিয়ে নেওয়া কালীসায়র থেকে উপাসনা মন্দির পর্যন্ত রাস্তাটি পুনরায় ফেরতের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন উপাচার্য এবং অধ্যাপকরা। অন্য দিকে বিশ্বভারতীকে গৈরিকীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করে বাম ছাত্র সংগঠন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাল্টা অবস্থান বিক্ষোভে বসে কবিগুরু মার্কেট এবং বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরাও।

কালীসায়র থেকে উপাসনা মন্দির পর্যন্ত রাস্তাটি বছরখানেক আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু মাস ছ’য়েক আগে নানা কারণ দেখিয়ে ওই রাস্তাটি সাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। করে দেওয়া হয় ব্যারিকেডও। নির্দেশিকা জারি হয়, ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেউ বিশ্বভারতীর ছবিও তুলতে পারবেন না। স্বাভাবিকভাবেই রাস্তার দু’পাশের বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েন। প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিলও করে স্থানীয়রা। সমস্যা সমাধানের জন্য অমর্ত্য সেন-সহ অনেকেই চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাতে সাড়া দিয়ে রাজ্য সরকার ওই রাস্তাটি জনসাধারণের জন্য ফিরিয়ে নেয়।

রাস্তাটি কেন রাজ্য সরকার ফিরিয়ে নিল? এই প্রশ্ন তুলে শনিবার সকাল থেকে ছাতিমতলায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী-সহ কর্মী ও অধ্যাপকেরা। উপাচার্যের অবস্থান শুরুর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা বিক্ষোভে সামিল হন বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, উপাচার্য বিশ্বভারতীতে গৈরিকীকরণের চেষ্টা করছেন। এদিন ছাতিমতলা থেকে দরজা দিয়ে উপাচার্যের বেরনোর সময় রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেয়। একপ্রস্থ ধস্তাধস্তি শুরু হয়। উপাচার্য গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। তবে কর্মী এবং অধ্যাপকরা কিছুক্ষণের জন্য আটকে পড়েন। অন্য দিকে ২০১৯ সালে পৌষমেলার জন্য জমা নেওয়া সিকিউরিটি মানি ফেরতের দাবিতে উপাসনা মন্দিরের অবস্থান বিক্ষোভে সামিল কবিগুরু মার্কেট এবং বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। তাঁদেরও অভিযোগ, বিশ্বভারতী রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছেন উপাচার্য।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles