ফ্ল্যাশব্যাক টোয়েন্টি টোয়েন্টি : এক

তাপস পাল
‘অজান্তে’ ‘সুরের আকাশে’ হারিয়ে গেলেন ‘নায়ক’। ‘দাদার কীর্তি’ দিয়ে সিনেমা জগতে আগমন ঘটলেও শুধু অভিনয় জগতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তাপস পাল। পরবর্তী জীবনে রাজনীতির ময়দানেও দেখিয়েছিলেন দাদাগিরি। এরকম অভিনেতা, রাজনীতিবিদ প্রায় নিঃশব্দেই চলে গেলেন ২০ ফেব্রুয়ারি।

১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে ‘সাহেব’, ‘সুরের ভুবনে’, ‘গুরু দক্ষিণা’, ‘মায়া মমতা’, ‘চোখের আলো’, ‘সমাপ্তি’, ‘মেজবউ’, ‘পথভোলা’, ‘আশীর্বাদ’ , ‘অনুরাগ’, ‘রাজার মেয়ে পারুল’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘বলিদান’, ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ প্রভৃতি একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শককে। এর মধ্যে ‘সাহেব’ ছবিটির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান অভিনেতা। তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন দেবশ্রী রায়, মহুয়া রায়চৌধুরী, শতাব্দী রায়, মুনমুন সেন প্রমুখেরা। তরুণ মজুমদার, তপন সিংহ, সলিল দত্ত, বীরেশ চট্টোপাধ্যায়, প্রভাত রায়, জহর বিশ্বাস প্রমুখ আট ও নয়ের দশকের পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি এ যুগের বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, রবি কিনাগী, স্বপন সাহা প্রমুখ পরিচালকের সঙ্গে কাজ করলেও ২০১২ সালে দেবাদিত্যের পরিচালনায় ‘৮:০৮ এর বনগাঁ লোকাল’ এক প্রতিবাদী চরিত্রে তাপস পালের অভিনয় দর্শকমহলে সাড়া ফেলেছিল। ১৯৮৪ সালে হিন্দি ছবি ‘অবোধ’ এ মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ছোটপর্দাতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘দুর্গেশনন্দিনী’র এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।

২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেন তিনি। এরপর ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে পরপর দুবার কৃষ্ণনগর লোকসভা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তাপস। তিনি তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। একবার এক জনসভায় প্রকাশ্যে বিরোধী দলের কর্মীদের নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করায় বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েন ‘চন্দননগরের ছেলে’। পরে তাকে জনসাধারণের কাছে ক্ষমাও চাইতে হয়। এছাড়াও চিটফান্ড সংস্থা ‘রোজভ্যালি’ কাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে যায় এবং সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন। যদিও তিনি আমৃত্যু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গেছেন।

২০ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৬১ বছর বয়সে মৃত্যু হয় এই অভিনেতার। মৃত্যুকালে রেখে গেছেন স্ত্রী নন্দিনী পাল ও একমাত্র কন্যা সোহিনী পালকে।

***

সতীশ গুজরাল
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী সতীশ গুজরাল ২৭ মার্চ রাত সাড়ে দশটায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। পদ্মবিভূষণে সম্মানিত শিল্পীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। দিল্লির লোধি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

***

সন্তু মুখোপাধ্যায়
তরুণ মজুমদারের ‘সংসার সীমান্তে’ অভিনয় করেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অভিনয় তাঁর রক্তে। তারপরই তপন সিংহ ‘রাজা’ ছবির নায়ক হিসাবে নির্বাচন করেন সন্তুকে। পরবর্তী সময়ে ‘হারমোনিয়াম’, ‘গণদেবতা’র মতো জনপ্রিয় ছবিতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা মেলে ধরেন সন্তু মুখোপাধ্যায়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘প্রতিমা’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল মর্মস্পর্শী।

সিনেমার সঙ্গে থিয়েটার ও ছোটপর্দার ধারাবাহিকেও বহু কাজ করেছেন। ‘জন্মভূমি’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত রতিকান্ত চরিত্রটি আজও বহু মানুষের মনে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘পারাপার’, ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘জলনূপুর’, ‘কুসুমদোলা’, ‘অন্দরমহল’ প্রভৃতি অসংখ্য ধারাবাহিকে তিনি অভিনয় করেছেন।

এছাড়া একটি বিখ্যাত যাত্রাদলের হয়ে দীর্ঘদিন অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। যাত্রাভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশনও করেছেন। ১১ মার্চ দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাড়িতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে চলে গেলেন অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল ৬৯। বেশ কিছুকাল ক্যানসার রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। তাঁর দুই মেয়ে স্বস্তিকা ও অজপা মুখোপাধ্যায়।

 

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles