পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র ফেরানোর বার্তা দিয়ে ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধলেন শুভেন্দু

নিউজ ডেস্ক: ‘আমরা প্রথমে ভারতীয়, তার পরে বাঙালি।’ এবার তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব নিয়ে পাল্টা আক্রমণে শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নিশানায় তৃণমূল সুপ্রিমো। মঙ্গলবার প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশ সামন্তের জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি সতীশ সামন্ত ও জওহরলাল নেহরুর সম্পর্ক নিয়ে আগােগাড়া তৃণমূল নেতৃত্বেক বিঁধলেন।

কেন্দ্র থেকে বিজেপি নেতাদের রাজ্যে আসা নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে তৃণমূল। পর পর সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলের তরফে ‘বহিরগত’ তত্ত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে। এদিন হলদিয়ার ‘অরাজনৈতিক সভা’ থেকে পরোক্ষে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেই ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব এবং ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সতীশ সামন্তকে সব সময় সমীহ করে চলতেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভারত থেকে যে সব প্রতিনিধি দল গিয়েছিল, সে দলে সতীশ বাবু প্রতিনিধিত্ব করতেন। সতীশ বাবু এগিয়ে গেলেই প্রধানমন্ত্রী উঠে দাঁড়াতেন। সতীশবাবু কখনও জওহরলাল নেহরুকে বহিরাগত ভাবতেন না। আর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু কখনওই সতীশবাবুকে কখনও হিন্দিভাষী ভাবতেন না। এটাই ভারতবর্ষ।” তাঁর আরও দাবি, “রাজনৈতিক পথ, মত যা-ই ঘটুক না কেন, যা-ই স্থিতাবস্থা থাকুক না কেন, যে পদে আমরা থাকি না কেন, আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা প্রথম ভারতীয়, তার পরে আমরা বাঙালি।”

এখানেই থামেননি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা। একইসঙ্গে দলতন্ত্র নিয়েও রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। বলেছেন, ‘‘আমরা দেশমাতৃকাকে বন্দন করব। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করব, কৃষকের অধিকার ফেরাব আর মিলেমিশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই হবে আমাদের একমাত্র পথ। গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে আপনাদের সেবক শুভেন্দু অধিকারী থাকবে।’’ তার পরেই ‘দলতন্ত্র’-কে কটাক্ষ করে তাঁর আরও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য, ‘‘কেন এখানে ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি, অব দ্য পার্টি ব্যবস্থা থাকবে! আমরা ভাল কাজের জন্য লড়ব। সংবিধান বলেছে, গণতন্ত্র ফর দ্য পিপ্‌ল, বাই দ্য পিপ্‌ল, অব দ্য পিপ্‌ল, সেটা পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনতে হবে।’’

তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘যাঁরা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন, শুনে রাখুন, আমি অনেক লড়াইয়ের সাক্ষী। এই জায়গায় পৌঁছতে আমায় বাধা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আমার উপর ১১বার আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু জনশক্তি, যুবশক্তি, মাতৃশক্তির আশীর্বাদ আমায় ঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।’’

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles