আপনারা এক পা জলে নামলে আমি এক গলা নামব : মমতা

নারায়ণ দে

‘বহিরাগতদের দেখলে তৈরি থাকবেন। কি আমার মা বোনেরা, কি আমার যুবসমাজ তৈরি তো?’ রাঙামাটির দেশে প্রায় ৪ কিলোমিটার পদযাত্রার পর জামবুনি মোড়ের পথসভায় ঠিক এভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের আহ্বান জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে অমিত শাহর রোড শোর পাল্টা ছিল এটি। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানায় রেখে যেন স্থানীয়দের মন জয় করে গেলেন মমতা।

অমিত শাহের রোড শো-য়ে অন্য জেলা থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল তৃণমূলের। বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি অনুযায়ী, এ দিনের মিছিলে ছিল ৩ লক্ষ মানুষ। এবং প্রত্যেকেই স্থানীয় বাসিন্দা। এদিন সত্যিই জনপ্লাবন দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রায়। যাত্রা শেষে উৎসুক সাধারণ মানুষ ভিড় জমান মঞ্চের আশপাশে। কী বার্তা দেন নেত্রী? এই প্রশ্ন ঘুরপাক করার মাঝেই নেত্রী বলে উঠলেন, ‘আপনারা এক পা জলে নামলে, আমি এক গলা নামতে প্রস্তুত।’ লক্ষ্য একটাই, ‘বহিরাগতদের হাতে বাংলাকে তুলে দেওয়া যাবে না।’

বিজেপিতে যোগদানের পর প্রায় প্রতিটি সভাতেই শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘মোদিজির হাতে বাংলাকে তুলে দিতে হবেই।’ অনেকটা এখানেই আপত্তি জানিয়ে মমতা বলেন, ‘তৃণমূল যখন শিশু ছিল, তখন আগলে রাখতাম। তৃণমূল যখন চারাগাছ ছিল, তখন আগলে রাখতাম। তৃণমূল এখন বটবৃক্ষ। দু’-একটা ডাল ঝরে গেলে গাছের ক্ষতি হয় না।’ অনেকটা এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন জননেত্রী বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

এদিন বক্তব্যের মাঝে বারবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি এই মাটির মানুষ। তুলে ধরলেন তাঁকে করা রাজীব গান্ধির প্রশংসার কথাও। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধানসভার ভোটের কথা মাথায় রেখে সমস্তটাই স্থানীয়দের মন জয়ের চেষ্টায়। আর এখানে তিনি যে বরাবর সাফল্য পেয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles