‘তোলাবাজ ভাইপো হটাও’, বিজেপিতে যোগ দিয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর

নিউজ ডেস্ক: ‘‘শুভেন্দু মাতব্বরি করতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসেনি। আমি একজন সাধারণ কর্মী। পতাকা লাগাতে বললে লাগাব, দেওয়াল লিখন করতে বললে করব।” অনেক বিপ্লবের সাক্ষী মেদিনীপুরের কলেজ ময়দান এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদান পর্বেরও সাক্ষী থাকল। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘তোলাবাজ ভাইপো হটাও’।

জানা গিয়েছিল আগেই। শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদান ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। শনিবার অমিত শাহের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘লোকপ্রিয় নেতা আমাদের দিলীপ ঘোষ মহোদয়কেও সম্মান জানাব। জাতীয়তাবোধ, দেশপ্রেম, বহুত্ববাদে বিশ্বাসী বিজেপি। সেই ভারতীয় জনতা পার্টির পরিবারের যিনি আমাকে প্রাথমিক সদস্যপদ দিয়ে স্বাগত জানালেন তিনি আমার দাদা। মোদির নেতৃত্বে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সব পূরণ করেছেন অমিত শাহ। উত্তরপ্রদেশে ঝড় বইয়ে দিয়েছেন।’’

অমিত শাহের সঙ্গে তার পরিচয় দীর্ঘদিনের। এই কথা বলতে গিয়ে অনেকটা অভিমানের সুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একটা ছোট্ট ঘরে অমিতজি আমাকে দর্শন দিয়েছিলেন। তিনি কখনও জোর করে দলে যোগ দিতে বলেননি। যখন কোভিড আক্রান্ত হই কেউ খোঁজ নেয়নি। অমিতজি খোঁজ দিয়েছে। মুকুল বলেছে তোর আত্মসম্মান থাকলে তুই তৃণমূলে থাকবি না। চলে আয়। অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। ও মাথানত করেনি। শুভেন্দু মাতব্বরি করতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসেনি। আমি একজন সাধারণ কর্মী। পতাকা লাগাতে বললে লাগাব, দেওয়াল লিখন করতে বললে করব।” মেদিনীপুরের মঞ্চে বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর।

এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তোপ দাগেন শুভেন্দু। তাঁর কটাক্ষ, “আপনি প্রথম হতে পারবেন না। প্রথম হবে ভারতীয় জনতা পার্টি। এবার দ্বিতীয় হবেন। বলছে মায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমার জন্মদাত্রী মা গায়িত্রী অধিকারী। এছাড়া কোনও মা নেই। যদি মা কাউকে বলতে হয় তবে ভারতমাতাকে বলব। অন্য কাউকে বলব না।” বক্তব্য শেষ করার আগে ছোট গল্প বলেন তিনি। তৃণমূলে থাকাকালীন ‘বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলেছিলেন নিষ্ঠার দিক থেকে। এদিন তিনি স্লোগান তুললেন, ‘তোলাবাজ ভাইপো হটাও’।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles