স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণে সাতটি ‘মিথ্যা কথা’ তুলে ধরল তৃণমূল

নিউজ ডেস্ক: ক্ষণিকের ভাষণে সাত সাতটি মিথ্যে কথা। তাও আবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে। শনিবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠের সভায় যে মিথ্যে কথাগুলি বলেছেন অমিত শাহ, সেগুলি এদিন এক এক করে ধরিয়ে দিল তৃণমূল। একদিকে টুইট করে জানালেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, অন্যদিকে একই তথ্য তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক সম্মলনে তুলে ধরলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

এক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “অন্য দলে যোগ দেওয়ার জন্য কংগ্রেস ছেড়েছিলেন ‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ দলত্যাগের জন্য অন্যদের আক্রমণ করছেন।” তৃণমূলের দািব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওদিন দলবদল করেননি। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে একটি নতুন দল তৈরি করেছিলেন।

দুই, অমিত শাহের অভিযোগ ছিল, “বাংলার মানুষকে ‘‌আয়ুষ্মান ভারত’‌ প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”‌ তৃণমূলের দাবি, ‘‌আয়ুষ্মান ভারত’‌ প্রকল্পের দু’‌বছর আগে ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌ বাংলায় চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় দেড় কোটি পরিবার বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা আগে থেকেই পেয়েছে। এখন তা রাজ্যের দশ কোটি মানুষকে এই প্রকেল্পর আওতায় আনার কাজ চলছে।

তিন, অমিত শাহ এও অভিযোগ করেছিলেন, ‘পিএম কিসান যোজনা’‌ থেকে বাংলার কৃষকদের বঞ্চিত করছে তৃণমূল সরকার। তৃণমূলের দাবি, এটাও মিথ্যে। বাংলার ‘‌কৃষকবন্ধু’‌ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের একর প্রতি বছরে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে একর প্রতি মাত্র ১,২১৪ টাকা দেওয়া হয়। ‘‌শস্যবিমা’‌র ক্ষেত্রে কৃষকদের হয়ে সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু কেন্দ্রের প্রকল্পে কৃষকদের থেকেই প্রিমিয়ামের একাংশ নেওয়া হয়।

চার, অমিত শাহের দাবি ছিল, ‘‌দেড় বছরে ৩০০ বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন।’‌ তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বহু বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আত্মহত্যাকেও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে চালানো হচ্ছে।’ সেরকম হিসাব কষলে ১৯৯৮ সাল থেকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের ১০২৭ জন কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও দািব করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।

পাঁচ, অমিত শাহ শনিবার অভিযোগ তুলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি বাংলার মানুষের জন্য খাদ্যশস্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা তা নিয়ে নিয়েছেন। আদতে বাংলার ‘‌খাদ্যসাথী’‌ কর্মসূচির আওতায় ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি মানুষ যাতে বিনামূল্যে রেশন পায় তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পাল্টা দাবি তৃণমূলের। বরং কেন্দ্র বিনামূল্যের েরশন বন্ধ করে দিয়েছে।

ছয়, অমিত শাহের অভিযোগ, বিজেপি–র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বাংলা সফরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেয়নি রাজ্য। তৃণমূলের দাবি, রাজ্য সরকার জেপি নাড্ডার জন্য ‘‌জেড প্লাস’‌ সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। তবে অনেকগুলি গাড়ির কনভয় তাঁকে অনুসরণ করায় ওই সুরক্ষা সমস্যা হয়।

সাত, অমিত শাহের দাবি, ‘‌নরেন্দ্র মোদি বাংলার গরিব মানুষদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন।’ তৃণমূলের পালটা দাবি, বাড়ি তৈরি করতে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ ও রাজ্য সরকার ৪০ শতাংশ টাকা দেয়। এদিকে নাম নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।

 

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles